BUSINESS NEWS
প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ছাড়াল ৪০ লাখ কোটি ডলার,
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ ১৬:১৮ অপরাহ্ন
BUSINESS NEWS

BUSINESS NEWS

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ গতকাল রেকর্ড ৪০ ট্রিলিয়ন বা ৪০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। বিভিন্ন খাতে উচ্চ ব্যয় দেশটির ফেডারেল সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ারের মতো সামাজিক কর্মসূচি এবং ক্রমবর্ধমান ঋণ বাবদ সুদ পরিশোধ। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ মাস আগেই মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছিল। এর পাঁচ মাস আগে অর্থাৎ গত অক্টোবরে ঋণ ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। 

অভূতপূর্ব ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এ মাইলফলক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পরস্পরবিরোধী অগ্রাধিকারগুলোকে সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি—যার ওপর নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ছয় মাস ধরে চলা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে সামরিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। একইসঙ্গে গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হ্রাসের চেষ্টার প্রভাবও পড়েছে সরকারি ব্যয়ে।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল ব্যয়ের অপচয়, প্রতারণা ও অনিয়ম কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতিশীল করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে, যাতে জিডিপির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের অনুপাত সঠিক পথে আনা যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বাড়তে থাকা ঋণ এবং সর্বশেষ এ রেকর্ড এরই মধ্যে সাধারণ আমেরিকানদের ওপর প্রভাব ফেলছে। এর ফলে বাড়ি ও গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণ নেয়ার খরচ বাড়ছে। যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের জন্য অর্থ কম থাকছে, তাদের মজুরি দেয়ার সক্ষমতাও কমছে। একই সঙ্গে পণ্য ও সেবার দামও বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করা থিংকট্যাংক পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল এ পিটারসন বলেন, জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে চাইলে এখনই আইনপ্রণেতাদের দেশের জন্য আরো সাশ্রয়ী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পথে এগোতে হবে—যা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ দ্রুত বেড়েছে। কারণ সরকারগুলো কর থেকে যে পরিমাণ অর্থ আয় করে, তার চেয়ে বেশি ব্যয় করে। কভিড-১৯ মহামারী উপলক্ষে বেশ কয়েক বছর মার্কিন অর্থনীতির বড় অংশ স্থবির হয়ে যায়। অর্থনীতি স্থিতিশীল ও পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ফেডারেল সরকার বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়।

গত বছর সিনেটে রিপাবলিকানদের আনা কর হ্রাস ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত একটি বিল আইনে পরিণত করেন ট্রাম্প। এর পর আরো সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন দেয়া হয়।

ভারসাম্যপূর্ণ বাজেটের পক্ষের সমর্থকরাও সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে আরো বেশি ঋণ নেয়া এবং তার ওপর আরো বেশি সুদ পরিশোধের প্রবণতা ভবিষ্যতে আমেরিকানদের কঠিন আর্থিক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করবে।

বাইপার্টিজান পলিসি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী মার্গারেট স্পেলিংস বলেন, ফেডারেল ঋণ এরই মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং অন্যান্য সরকারি ব্যয় ও বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত করছে। এটি অর্থনীতি ও আমেরিকানদের দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির জন্য হুমকি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আর্থিক গতিপথ স্পষ্টতই টেকসই নয়। এটিই যদি সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হয়, তাহলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে কর্মসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন, মন্দা, বৈশ্বিক যুদ্ধ বা এ ধরনের অন্য যেকোনো ঘটনা দ্রুত পরিস্থিতিকে একটি চ্যালেঞ্জ থেকে পূর্ণাঙ্গ সংকটে পরিণত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে আইন করে জাতীয় ঋণের একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা আছে, যাকে ‘ডেট লিমিট’ বা ঋণসীমা বলা হয়। কংগ্রেস এই সীমা নির্ধারণ, বাড়ানো কিংবা পুরোপুরি বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। বাইপার্টিজান পলিসি সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শীতের শেষ দিক থেকে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ৪১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণসীমায় পৌঁছানোর সম্ভাবনাই বেশি। তখন ঋণসীমা বাড়ানো বা স্থগিত করার বিষয়ে কংগ্রেসকে আবারো ভোট দিতে হবে।

এদিকে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অবস্থাই সবচেয়ে খারাপ।