→ পেনিনসুলার প্রয়াত উদ্যোক্তার স্ত্রীর নামে ৮৯,০৩,০১৬টি শেয়ার হস্তান্তর→ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের পতনে লেনদেন ৭২৭ কোটি টাকা→ শরিয়াভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছে আইপিডিসি→ শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৬৩,৮৯,৭২৪টি শেয়ার কিনবে আর্টিস্টিক ডিজাইন→ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দরপতনের শীর্ষে আমরা নেটওয়ার্কস
No icon

বাংলাদেশে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে নিউইয়র্কে ভিওন-বাংলালিংকের সম্মেলন

বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে ১০০ কোটি ডলারের এফডিআই আনার লক্ষ্যে বিনিয়োগ সম্মেলনে নতুন গতি, যার ভিত্তিতে রয়েছে ভিওনের ২৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নিয়ে বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে গ্লোবাল ডিজিটাল অপারেটর ভিওন ও এর বাংলাদেশি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বাংলালিংক।

গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাও!’ উদ্যোগের আওতায় এটি ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন।

এ গোলটেবিল বৈঠকে গ্লোবাল ইনভেস্টরস, উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

চলতি বছরের শুরুর দিকে চালু হওয়া ভিওনের ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাও!’ উদ্যোগটি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি প্রস্তাবিত পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভিওন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে মোট ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি এ উদ্যোগের আওতায় আয়োজিত প্রথম বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন। এতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনিসহ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং শীর্ষস্থানীয় গ্লোবাল ইনভেস্টর ও উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল ব্ল্যাকরক, রথসচাইল্ড, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও বিশ্বব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে ভিওন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কান তেরজিওগ্লো বলেন, “বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের দারুণ এক সুযোগ তৈরি করেছে। এ সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে আমরা ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এর পাশাপাশি দেশে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরকেও যুক্ত করছি আমরা। বাংলালিংকের মাধ্যমে আমরা কানেক্টিভিটি থেকে ডিজিটাল সেবায় আমাদের কার্যক্রম বাড়াচ্ছি। ফলে অর্থ পরিশোধ, বিভিন্ন সেবা গ্রহণ এবং দেশের অর্থনীতিতে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকেরা। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে সবার জন্য আরও সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা অগি কে ফাবেলা বলেন, “যেসব দেশের ডিজিটাল সম্ভাবনা এখনো গ্লোবাল ইনভেস্টরদের যথাযথ নজরে আসেনি, সেসব দেশগুলোতে বিনিয়োগ করে আসছে ভিওন। বাংলাদেশে ১৭ কোটির বেশি মানুষ বসবাস করেন। দেশটির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তরুণ এবং এর ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। অন্য বিনিয়োগকারীদের আগে আমরাই এখানে বিনিয়োগ করছি, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থার প্রতিফলন।”

ডিজিটাল সেবার পরিসর বাড়ানোর যাত্রায় বাংলালিংকের সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো তুলে ধরা হয় এ সম্মেলনে। সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছ থেকে স্টারলিংকের ডিরেক্ট-টু-সেল/স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালুর অনুমোদন পেয়েছে বাংলালিংক। এর ফলে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা এলাকায় উপযুক্ত মোবাইল ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হবে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এ সেবা চালু করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপের অংশীদারিত্বে নতুন ডিজিটাল ব্যাংক চালুর অনুমোদনের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। অর্থমন্ত্রী এ অনুমোদনের কথা ঘোষণা করেন। চলতি সপ্তাহেই পৃথকভাবে নিজেদের ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘মুক্ত পে’ চালু করেছে বাংলালিংক। এ সেবার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, মার্চেন্ট ও বিল পেমেন্ট এবং অর্থ বিতরণ করা যাবে।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান বুসে বলেন, “ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলালিংকের রূপান্তরের যাত্রায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নিউইয়র্কে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রিত করার মাধ্যমে ভিওন বাংলাদেশের জন্য একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। আমাদের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে আগামীতে দেশের ডিজিটাল খাতে বাস্তব ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। এই অগ্রযাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত।”